🗓️ জানুয়ারি ২০২৬
২ জানুয়ারি
🌱 বার্ষিক প্রথম সার প্রয়োগ
প্রতি গাছে:
  • ভার্মি কম্পোস্ট – 1.5 কেজি
  • সরিষার খোল (৩ দিন ভেজানো) – 150 গ্রাম
  • নিম খোল – 100 গ্রাম
  • হাড়গুঁড়ো – 60 গ্রাম
শীতের আগে পুষ্টি জোরদার করুন। গোড়া থেকে ১.৫ ফুট দূরে বৃত্তাকারে মাটির সাথে মিশিয়ে দিন।
৯ জানুয়ারি
💧 গ্রোথ স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • Seaweed extract – 20 ml
  • জৈব মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট – 10 গ্রাম
২৪ জানুয়ারি
💧 জিঙ্ক স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • Seaweed extract – 15 ml
  • জিঙ্ক সালফেট – 7 গ্রাম
লিচুর জন্য অত্যন্ত জরুরি
🗓️ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৮ ফেব্রুয়ারি
🌸 ফুল আসার প্রস্তুতি স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • Seaweed extract – 20 ml
  • কলা পিউডোস্টেম রস – 200 ml
২২ ফেব্রুয়ারি
🌺 ফুল ঝরা রোধ স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • বোরন (Liquid) – 22 ml
  • Seaweed extract – 15 ml
🍊 সিট্রাসের জন্য খুবই জরুরি
🗓️ মার্চ ২০২৬
৮ মার্চ
🍇 ফল সেটিং স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • Seaweed extract – 20 ml
  • জৈব ক্যালসিয়াম – 10 ml
  • কলাপাতার রস – 100 ml
২২ মার্চ
🛡️ রোগ প্রতিরোধ স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • Trichoderma – 10 ml
  • Pseudomonas – 10 ml
  • নিম তেল – 30 ml
  • তরল সাবান – 15 ml
🗓️ এপ্রিল ২০২৬
৫ এপ্রিল
🌱 দ্বিতীয় সার প্রয়োগ
প্রতি গাছে:
  • ভার্মি কম্পোস্ট – 1.5 কেজি
  • নিম খোল – 150 গ্রাম
  • হাড়গুঁড়ো – 80 গ্রাম
  • কাঠের ছাই – 100 গ্রাম
🌡️ সার দেওয়ার পর মালচিং করুন (শুকনো ঘাস/খড়)
২০ এপ্রিল
🍎 ফল ধরে রাখার স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • Seaweed extract – 15 ml
  • জৈব ক্যালসিয়াম – 10 ml
  • পটাশিয়াম সালফেট – 10 গ্রাম
🗓️ মে ২০২৬
৫ মে
☀️ স্ট্রেস কমানোর স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • Seaweed extract – 20 ml
  • ঘোলজল – 500 ml
  • গুড়ের পানি – 100 ml
💧 জল দেওয়া বাড়ান: সপ্তাহে ৩-৪ বার
২০ মে
🐛 পোকা প্রতিরোধ স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • নিম তেল – 45 ml
  • রসুন-মরিচ মিশ্রণ – 200 ml
  • তরল সাবান – 15 ml
🗓️ জুন ২০২৬
৫ জুন
🌧️ বর্ষার আগে সুরক্ষা
১৫ লিটার পানিতে:
  • Trichoderma – 10 ml
  • Seaweed extract – 15 ml
  • তামা সালফেট – 2 গ্রাম
☔ নিকাশের নালা কেটে নিন
২০ জুন
🍊 ফল বৃদ্ধি স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • জৈব পটাশ – 15 ml
  • Seaweed extract – 15 ml
  • ম্যাগনেসিয়াম সালফেট – 7 গ্রাম
🗓️ জুলাই ২০২৬
৫ জুলাই
🛡️ ছত্রাকরোধী স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • Trichoderma – 12 ml
  • নিম তেল – 30 ml
  • বেকিং সোডা – 10 গ্রাম
বর্ষায় পাতায় ছত্রাক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি
২০ জুলাই
💧 পুষ্টি স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • Seaweed extract – 20 ml
  • জৈব মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট – 12 গ্রাম
🗓️ আগস্ট ২০২৬
৫ আগস্ট
🌿 জৈব কীটনাশক স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • নিম তেল – 45 ml
  • মিহি পিঁয়াজ-রসুন পেস্ট – 150 ml
  • তরল সাবান – 15 ml
২০ আগস্ট
🛡️ প্রতিরোধক স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • Pseudomonas – 10 ml
  • Seaweed extract – 15 ml
🗓️ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ সেপ্টেম্বর
🌱 বৃদ্ধি ত্বরণ স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • Seaweed extract – 20 ml
  • জৈব পটাশ – 10 ml
২০ সেপ্টেম্বর
🍃 পাতার স্বাস্থ্য স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • ম্যাগনেসিয়াম সালফেট – 10 গ্রাম
  • জিঙ্ক সালফেট – 5 গ্রাম
  • Seaweed extract – 15 ml
🗓️ অক্টোবর ২০২৬
৫ অক্টোবর
🌱 তৃতীয় সার প্রয়োগ
প্রতি গাছে:
  • ভার্মি কম্পোস্ট – 2 কেজি
  • সরিষার খোল – 150 গ্রাম
  • নিম খোল – 150 গ্রাম
  • হাড়গুঁড়ো – 100 গ্রাম
  • কাঠের ছাই – 150 গ্রাম
২০ অক্টোবর
💧 শক্তি বর্ধক স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • Seaweed extract – 20 ml
  • জৈব মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট – 12 গ্রাম
🗓️ নভেম্বর ২০২৬
৫ নভেম্বর
🌸 ফুল আসার প্রস্তুতি (২য় ফ্লাশ)
১৫ লিটার পানিতে:
  • Seaweed extract – 20 ml
  • বোরন – 20 ml
২০ নভেম্বর
🛡️ শীতের রোগ প্রতিরোধ
১৫ লিটার পানিতে:
  • Trichoderma – 10 ml
  • নিম তেল – 30 ml
🗓️ ডিসেম্বর ২০২৬
৫ ডিসেম্বর
🍒 লিচু বিশেষ স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • জিঙ্ক সালফেট – 10 গ্রাম
  • বোরন – 20 ml
  • Seaweed extract – 15 ml
🍒 লিচুতে ডিসেম্বরে ঠান্ডা লাগা জরুরি ফুলের জন্য
২০ ডিসেম্বর
💧 শীতকালীন পুষ্টি স্প্রে
১৫ লিটার পানিতে:
  • Seaweed extract – 20 ml
  • জৈব পটাশ – 10 ml

🏡 বাড়িতে তৈরির সহজ পদ্ধতি (১০০% কার্যকরী)

১. 🍌 কলাপাতার রস

কী: শুকনো কলাপাতা থেকে তৈরি পটাশিয়াম সমৃদ্ধ তরল

কেন লাগে: ফল মিষ্টি ও বড় করে, ফুল ধরতে সাহায্য করে

তৈরির পদ্ধতি:

  • ✓ শুকনো কলাপাতা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন (২০০ গ্রাম)
  • ✓ একটি বালতিতে ৫ লিটার জল নিন
  • ✓ কলাপাতার টুকরো জলে ভিজিয়ে রাখুন
  • ✓ ৭-১০ দিন রেখে দিন (মাঝে মাঝে নাড়ুন)
  • ✓ পাতা ছেঁকে তরল অংশ ব্যবহার করুন

ব্যবহার: ১৫ লিটার জলে ১০০ ml মিশিয়ে স্প্রে করুন

২. 🥚 জৈব ক্যালসিয়াম

কী: ডিমের খোসা থেকে তৈরি প্রাকৃতিক ক্যালসিয়াম

কেন লাগে: ফল ফেটে যাওয়া রোধ করে, শক্ত ফল হয়

তৈরির পদ্ধতি:

  • ✓ ১৫-২০টি ডিমের খোসা ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন
  • ✓ শুকনো খোসা পিষে গুঁড়ো করুন
  • ✓ ১ লিটার সাদা সিরকায় (Vinegar) গুঁড়ো মিশান
  • ✓ একটি কাচের পাত্রে ঢাকনা দিয়ে ৭-১০ দিন রাখুন
  • ✓ বুদবুদ বন্ধ হলে ছেঁকে নিন

ব্যবহার: ১৫ লিটার জলে ১০ ml মিশিয়ে স্প্রে করুন

বিকল্প: খোসা শুকিয়ে পিষে সরাসরি মাটিতেও দিতে পারেন

৩. 🍌 কলা পিউডোস্টেম রস

কী: কলাগাছের নরম ভেতরের অংশ থেকে রস

কেন লাগে: পটাশিয়াম সমৃদ্ধ, ফুল আসতে সাহায্য করে

তৈরির পদ্ধতি:

  • ✓ একটি পুরনো কলাগাছ কেটে নিন
  • ✓ বাইরের শক্ত অংশ ছাড়িয়ে ভেতরের নরম অংশ নিন (১ কেজি)
  • ✓ এই নরম অংশ ছোট ছোট করে কেটে থেঁতো করুন
  • ✓ একটি কাপড়ে মুড়ে চেপে রস বের করুন
  • ✓ ছেঁকে নিন, তাজা রস পাবেন

ব্যবহার: ১৫ লিটার জলে ২০০ ml মিশিয়ে স্প্রে করুন

টিপ: তাজা তৈরি করে ২-৩ দিনের মধ্যে ব্যবহার করুন

৪. 🌿 জৈব মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট (মিশ্র খনিজ)

কী: একসাথে অনেক ছোট পুষ্টি উপাদানের মিশ্রণ

কেন লাগে: পাতা সবুজ রাখে, গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়

বাড়িতে তৈরি করুন:

  • ✓ কাঠের ছাই – ২০০ গ্রাম (পটাশ)
  • ✓ ডিমের খোসা গুঁড়ো – ১০০ গ্রাম (ক্যালসিয়াম)
  • ✓ শুকনো কলার খোসা গুঁড়ো – ১০০ গ্রাম (পটাশিয়াম)
  • ✓ নিম পাতার গুঁড়ো – ৫০ গ্রাম
  • ✓ সব একসাথে মিশিয়ে রাখুন

ব্যবহার: ১৫ লিটার জলে ১০-১২ গ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করুন

৫. 🔥 জৈব পটাশ (কাঠের ছাই থেকে)

কী: কাঠের ছাই থেকে তৈরি পটাশিয়াম তরল

কেন লাগে: ফল মিষ্টি করে, রোগ প্রতিরোধ বাড়ায়

তৈরির পদ্ধতি:

  • ✓ পরিষ্কার কাঠের ছাই সংগ্রহ করুন (৫০০ গ্রাম)
  • ✓ একটি বালতিতে ৫ লিটার জল নিন
  • ✓ ছাই জলে মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টা রেখে দিন
  • ✓ মাঝে মাঝে নাড়ুন
  • ✓ পরেরদিন ছেঁকে উপরের পরিষ্কার তরল নিন

ব্যবহার: ১৫ লিটার জলে ১০-১৫ ml মিশিয়ে স্প্রে করুন

সাবধান: কয়লার ছাই ব্যবহার করবেন না, শুধু কাঠের ছাই

৬. 🧄 মিহি পিঁয়াজ-রসুন পেস্ট (কীটনাশক)

কী: পিঁয়াজ ও রসুন থেকে তৈরি প্রাকৃতিক পোকা তাড়ানোর স্প্রে

কেন লাগে: পোকামাকড় দূরে রাখে, ছত্রাক রোধ করে

তৈরির পদ্ধতি:

  • ✓ মাঝারি পিঁয়াজ – ৫টি
  • ✓ রসুনের কোয়া – ১০০ গ্রাম (১ মুঠো)
  • ✓ কাঁচা মরিচ – ১০-১৫টি
  • ✓ সব একসাথে ব্লেন্ডারে পিষে নিন
  • ✓ ১ লিটার জল মিশিয়ে আরও ব্লেন্ড করুন
  • ✓ কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিন
  • ✓ একটি বোতলে রেখে দিন (২-৩ সপ্তাহ চলবে)

ব্যবহার: ১৫ লিটার জলে ১৫০-২০০ ml মিশিয়ে স্প্রে করুন

🐄 গোবর দিয়ে ভার্মি কম্পোস্টের

পদ্ধতি ১: পচা গোবর কম্পোস্ট

  • ✓ তাজা গোবর একটি গর্তে বা কোণায় জমা করুন
  • ✓ শুকনো পাতা, খড়, ঘাস মিশিয়ে দিন
  • ✓ জল ছিটিয়ে ভিজিয়ে রাখুন
  • ✓ সপ্তাহে ১ বার উল্টে-পাল্টে দিন
  • ✓ ২-৩ মাস পরে ভালো করে পচে কালো হলে ব্যবহার করুন

📊 তুলনা সারণী:

উপাদান ভার্মি কম্পোস্ট পচা গোবর
মাটিতে প্রতি গাছে 1.5 কেজি 2-2.5 কেজি
পুষ্টি মান বেশি ঘন কম ঘন (তাই বেশি লাগে)
প্রয়োগ ফ্রিকোয়েন্সি বছরে ৩ বার বছরে ৩ বার (একই)
⚠️ খুব জরুরি:
  • • কখনো তাজা গোবর সরাসরি গাছে দেবেন না
  • • তাজা গোবর গাছ পুড়িয়ে দেয় (অতিরিক্ত তাপ)
  • • কমপক্ষে ২-৩ মাস পচানোর পর ব্যবহার করুন
✨ সেরা উপায়: ভার্মি কম্পোস্ট + পচা গোবর মিশিয়ে ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাবেন। প্রতি গাছে ১ কেজি ভার্মি + ১ কেজি পচা গোবর দিতে পারেন।
🍋 লেবু গাছের পরিচর্যা
পর্যায় ১: ফুল আসার ৭-১০ দিন আগে দিন ০

লক্ষণ: ডালের মাথায় ছোট সবুজ কুঁড়ি দেখা যাবে

🌿 স্প্রে ১ - ফুল আসার প্রস্তুতি স্প্রে

১৫ লিটার পানিতে মিশান:
  • বোরন (Liquid Boron) – 20-22 ml (1.3-1.5 ml/লিটার)
  • Seaweed extract – 20 ml
  • জৈব পটাশ – 10 ml
কেন এই স্প্রে: বোরন পরাগায়ন ভালো করে, ফুল ঝরা ৪০-৫০% কমায়
পর্যায় ২: ফুল ফোটা শুরু দিন ১০

লক্ষণ: ৪০-৫০% ফুল ফুটে গেছে, সাদা ফুল দেখা যাচ্ছে

🌿 স্প্রে ২ - ফুল ঝরা রোধ স্প্রে

১৫ লিটার পানিতে মিশান:
  • জৈব ক্যালসিয়াম (Calcium liquid) – 10-12 ml
  • বোরন – 15 ml
  • Seaweed extract – 15 ml
  • কলা পিউডোস্টেম রস – 150 ml
⚠️ খুব জরুরি: এই সময় স্প্রে না করলে ৬০-৭০% ফুল ঝরে যেতে পারে!
পর্যায় ৩: ছোট ফল ধরা শুরু দিন ২০

লক্ষণ: মটর দানার মতো ছোট সবুজ ফল দেখা যাচ্ছে

🌿 স্প্রে ৩ - ফল ধরে রাখার স্প্রে

১৫ লিটার পানিতে মিশান:
  • জৈব ক্যালসিয়াম – 15 ml
  • বোরন – 12 ml
  • জিঙ্ক সালফেট – 7 গ্রাম
  • Seaweed extract – 15 ml
এই স্প্রের প্রভাব: ছোট ফল ঝরা ৫০-৬০% কমে যায়
পর্যায় ৪: ফল মার্বেল সাইজ দিন ৩৫

লক্ষণ: ফল মার্বেল বা গুলির মতো বড় হয়েছে

🌿 স্প্রে ৪ - ফল বৃদ্ধি স্প্রে

১৫ লিটার পানিতে মিশান:
  • জৈব পটাশ – 15 ml
  • ম্যাগনেসিয়াম সালফেট – 10 গ্রাম
  • Seaweed extract – 20 ml

📊 লেবু - সম্পূর্ণ টাইমলাইন চার্ট

দিন পর্যায় স্প্রে মূল উপাদান
দিন ০ কুঁড়ি দেখা স্প্রে ১ বোরন + Seaweed
দিন ১০ ফুল ফোটা স্প্রে ২ ক্যালসিয়াম + বোরন
দিন ২০ ছোট ফল স্প্রে ৩ ক্যালসিয়াম + জিঙ্ক
দিন ৩৫ মার্বেল সাইজ স্প্রে ৪ পটাশ + ম্যাগনেসিয়াম
দিন ৫৫ পূর্ণ আকার স্প্রে ৫ পটাশ (মিষ্টি)

🚨 লেবুর বিশেষ সমস্যা ও সমাধান

সমস্যা ১: ফুল প্রচুর ঝরছে

  • কারণ: বোরন ঘাটতি, জল কম/বেশি
  • সমাধান: ৭ দিন পরপর ২ বার বোরন স্প্রে করুন
  • স্প্রে: ১৫ লিটার জলে বোরন ২৫ ml + ক্যালসিয়াম ১০ ml

সমস্যা ২: ছোট ফল হলুদ হয়ে ঝরছে

  • কারণ: ক্যালসিয়াম বা জিঙ্ক ঘাটতি
  • সমাধান: জরুরি স্প্রে করুন
  • স্প্রে: ক্যালসিয়াম ১৫ ml + জিঙ্ক ১০ গ্রাম (১৫ লিটার জলে)
  • পুনরাবৃত্তি: ৭ দিন পর আরেকবার

সমস্যা ৩: ফল ফেটে যাচ্ছে

  • কারণ: অনিয়মিত জল, ক্যালসিয়াম ঘাটতি
  • সমাধান: নিয়মিত জল দিন + ক্যালসিয়াম স্প্রে
  • স্প্রে: সপ্তাহে ১ বার ক্যালসিয়াম ১৫ ml (১৫ লিটার জলে)
🍊 মালটা/কমলা পরিচর্যা
পর্যায় ১: ফুল আসার ১৫-২০ দিন আগে জানুয়ারি শেষ

লক্ষণ: ডালে নতুন পাতা আসা বন্ধ, পাতা গাঢ় সবুজ হয়েছে

🌿 স্প্রে ১ - প্রি-ফ্লাওয়ারিং স্প্রে

১৫ লিটার পানিতে মিশান:
  • জিঙ্ক সালফেট – 10 গ্রাম
  • বোরন – 20 ml
  • Seaweed extract – 25 ml
  • জৈব পটাশ – 10 ml
গুরুত্ব: এই স্প্রে ফুল আসার পরিমাণ ৩০-৪০% বাড়ায়
পর্যায় ২: কুঁড়ি দেখা গেলে দিন ০

লক্ষণ: ছোট সবুজ কুঁড়ি ডালের মাথায় দেখা যাচ্ছে

🌿 স্প্রে ২ - কুঁড়ি বৃদ্ধি স্প্রে

১৫ লিটার পানিতে মিশান:
  • বোরন – 22 ml
  • Seaweed extract – 20 ml
  • জৈব মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট – 12 গ্রাম
পর্যায় ৩: ফুল ফোটা শুরু দিন ১০-১২

লক্ষণ: ৫০% ফুল ফুটে সাদা দেখা যাচ্ছে, সুগন্ধ বেরোচ্ছে

🌿 স্প্রে ৩ - ফুল ঝরা রোধ স্প্রে

১৫ লিটার পানিতে মিশান:
  • বোরন – 25 ml
  • জৈব ক্যালসিয়াম – 12 ml
  • কলা পিউডোস্টেম রস – 200 ml
  • Seaweed extract – 15 ml
⚠️ অত্যন্ত জরুরি: মালটায় ফুল প্রচুর ঝরে, এই স্প্রে বাদ দিলে ৭০-৮০% ফুল ঝরতে পারে!
পর্যায় ৪: ছোট ফল ধরা দিন ২৫

লক্ষণ: মটর দানার মতো ছোট সবুজ ফল দেখা যাচ্ছে

🌿 স্প্রে ৪ - ফল ধরে রাখার স্প্রে

১৫ লিটার পানিতে মিশান:
  • জৈব ক্যালসিয়াম – 15 ml
  • বোরন – 15 ml
  • জিঙ্ক সালফেট – 8 গ্রাম
  • Seaweed extract – 20 ml
এই পর্যায়ে: প্রচুর ছোট ফল ঝরে যায়, এই স্প্রে ৫০-৬০% ফল বাঁচায়
পর্যায় ৫: ফল মার্বেল সাইজ দিন ৪৫

লক্ষণ: ফল গুলির মতো বড় হয়েছে

🌿 স্প্রে ৫ - ফল বৃদ্ধি স্প্রে (১ম বার)

১৫ লিটার পানিতে মিশান:
  • জৈব পটাশ – 15 ml
  • ম্যাগনেসিয়াম সালফেট – 10 গ্রাম
  • জিঙ্ক সালফেট – 5 গ্রাম
  • Seaweed extract – 20 ml

📊 মালটা - সম্পূর্ণ টাইমলাইন চার্ট

সময় পর্যায় স্প্রে ব্যবধান
জানুয়ারি শেষ প্রস্তুতি স্প্রে ১ -
ফেব্রুয়ারি শুরু কুঁড়ি স্প্রে ২ ১৫ দিন
ফেব্রুয়ারি মাঝ ফুল ফোটা স্প্রে ৩ ১০ দিন
মার্চ শুরু ছোট ফল স্প্রে ৪ ১৫ দিন
এপ্রিল মার্বেল স্প্রে ৫ ২০ দিন

🚨 মালটার বিশেষ সমস্যা ও সমাধান

সমস্যা ১: ফুল প্রচুর ঝরছে

  • সমাধান: তাৎক্ষণিক বোরন + ক্যালসিয়াম স্প্রে
  • স্প্রে: বোরন ৩০ ml + ক্যালসিয়াম ১৫ ml (১৫ লিটার জলে)
  • পুনরাবৃত্তি: ৫ দিন পর আরেকবার

সমস্যা ২: জুন-জুলাইতে ছোট ফল হলুদ হয়ে ঝরছে

  • কারণ: গরমে স্ট্রেস + পুষ্টি ঘাটতি
  • স্প্রে: Seaweed ২৫ ml + ক্যালসিয়াম ১৫ ml + জিঙ্ক ১০ গ্রাম
  • অতিরিক্ত: গাছের গোড়ায় মালচিং করুন + সেচ বাড়ান

সমস্যা ৩: পাতা হলুদ, সাদা শিরা দেখা যাচ্ছে

  • কারণ: জিঙ্ক ঘাটতি (মালটায় খুব সাধারণ)
  • স্প্রে: জিঙ্ক সালফেট ১৫ গ্রাম + Seaweed ২০ ml (১৫ লিটার জলে)
  • ফ্রিকোয়েন্সি: ১৫ দিন পরপর ৩ বার
🥭 আম গাছের পরিচর্যা
পর্যায় ১: ফুল আসার ১৫-২০ দিন আগে জানুয়ারি শুরু

লক্ষণ: গাছের বৃদ্ধি থেমে গেছে, পাতা গাঢ় সবুজ

🌿 স্প্রে ১ - প্রি-ফ্লাওয়ারিং + পোকা প্রতিরোধ

১৫ লিটার পানিতে মিশান:
  • জৈব পটাশ – 15 ml
  • বোরন – 20 ml
  • নিম তেল – 45 ml (হপার পোকার জন্য)
  • তরল সাবান – 15 ml
কেন নিম তেল: হপার পোকা ফুল খেয়ে ফেলে, এখন থেকে নিয়ন্ত্রণ শুরু করতে হবে
পর্যায় ২: ফুলের মঞ্জরি বের হওয়া দিন ০

লক্ষণ: ডালের মাথায় লালচে-সবুজ মঞ্জরি (ফুলের থোকা) দেখা যাচ্ছে

🌿 স্প্রে ২ - মঞ্জরি সুরক্ষা স্প্রে

১৫ লিটার পানিতে মিশান:
  • বোরন – 25 ml
  • Seaweed extract – 20 ml
  • নিম তেল – 45 ml
  • তরল সাবান – 15 ml
⚠️ সাবধান: এই সময় হপার পোকা সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করে
পর্যায় ৩: ফুল ফোটা শুরু দিন ১০-১২

লক্ষণ: মঞ্জরিতে ছোট সাদা-হলুদ ফুল ফুটছে

🌿 স্প্রে ৩ - ফুল ঝরা রোধ + ছত্রাক প্রতিরোধ

১৫ লিটার পানিতে মিশান:
  • বোরন – 25 ml
  • জৈব ক্যালসিয়াম – 12 ml
  • বেকিং সোডা – 15 গ্রাম (পাউডারি মিলডিউ রোগের জন্য)
  • Seaweed extract – 15 ml
বেকিং সোডা কেন: আমে পাউডারি মিলডিউ (সাদা পাউডার) রোগ হলে ফুল-ফল ঝরে যায়
পর্যায় ৪: ফুল পুরোপুরি ফোটা দিন ২০

লক্ষণ: পুরো মঞ্জরি ফুলে ভরা, মৌমাছি আসছে

🌿 স্প্রে ৪ - পরাগায়ন সহায়ক স্প্রে

১৫ লিটার পানিতে মিশান:
  • বোরন – 20 ml
  • জৈব পটাশ – 10 ml
  • কলা পিউডোস্টেম রস – 200 ml
✅ টিপ: এই সময় কোনো কীটনাশক স্প্রে করবেন না, মৌমাছি মারা যাবে
পর্যায় ৫: ছোট ফল ধরা (মটর সাইজ) দিন ৩৫

লক্ষণ: মটর দানার মতো ছোট সবুজ আম দেখা যাচ্ছে

🌿 স্প্রে ৫ - ফল ধরে রাখার স্প্রে

১৫ লিটার পানিতে মিশান:
  • জৈব ক্যালসিয়াম – 15 ml
  • বোরন – 15 ml
  • জিঙ্ক সালফেট – 8 গ্রাম
  • Seaweed extract – 20 ml
⚠️ এই পর্যায়ে: প্রচুর ছোট আম ঝরে যায় (৭০-৮০%), এটা স্বাভাবিক
পর্যায় ৬: মার্বেল সাইজ আম দিন ৫০

লক্ষণ: গুলির মতো বড় হয়েছে

🌿 স্প্রে ৬ - ফল বৃদ্ধি স্প্রে (১ম বার)

১৫ লিটার পানিতে মিশান:
  • জৈব পটাশ – 20 ml
  • ম্যাগনেসিয়াম সালফেট – 12 গ্রাম
  • নিম তেল – 30 ml (ফল ছিদ্রকারী পোকার জন্য)
  • তরল সাবান – 15 ml
পর্যায় ৭-৮: ফল বড় হওয়া দিন ৭০, ৯০

সময়কাল: এপ্রিল-মে

🌿 স্প্রে ৭-৮ - ১৫-২০ দিন পরপর ২ বার

১৫ লিটার পানিতে মিশান:
  • জৈব পটাশ – 25 ml
  • ম্যাগনেসিয়াম – 12 গ্রাম
  • নিম তেল – 30 ml (পোকার জন্য)
✅ ফলাফল: আম বড় ও মিষ্টি হয়, ফল ছিদ্রকারী পোকা থেকে সুরক্ষা

📊 আম - সম্পূর্ণ টাইমলাইন চার্ট

সময় পর্যায় স্প্রে মূল উদ্দেশ্য
জানুয়ারি শুরু প্রস্তুতি স্প্রে ১ হপার নিয়ন্ত্রণ
জানুয়ারি শেষ মঞ্জরি স্প্রে ২ মঞ্জরি সুরক্ষা
ফেব্রুয়ারি শুরু ফুল আসা স্প্রে ৩ ছত্রাক রোধ
ফেব্রুয়ারি মাঝ পূর্ণ ফুল স্প্রে ৪ পরাগায়ন
মার্চ ছোট ফল স্প্রে ৫ ফল ধরে রাখা

🚨 আমের বিশেষ সমস্যা ও সমাধান

সমস্যা ১: মঞ্জরি কালো হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে

  • কারণ: হপার পোকা বা পাউডারি মিলডিউ
  • জরুরি স্প্রে: নিম তেল ৬০ ml + বেকিং সোডা ২০ গ্রাম (১৫ লিটার জলে)
🍐 পেয়ারা ফুল-ফল
পর্ব ১: ফুল কুঁড়ি দেখা গেলে

🌿 স্প্রে ১:

  • Seaweed extract – 20 ml
  • জৈব পটাশ – 10 ml
  • ১৫ লিটার জলে
পর্ব ২: ছোট ফল ধরা (১০ দিন পর)

🌿 স্প্রে ২:

  • ক্যালসিয়াম – 10 ml
  • বোরন – 15 ml
  • ১৫ লিটার জলে
🐛 পেয়ারার বিশেষ সমস্যা - ফলের মাছি পোকা: ছোট ফল মার্বেল সাইজ হলে পলিথিন ব্যাগ দিয়ে ঢেকে দিন
🍒 লিচু গাছের ফুল-ফল
পর্ব ১: ডিসেম্বর (ফুল আসার প্রস্তুতি)

🌿 স্প্রে ১ - প্রি-ফ্লাওয়ারিং:

  • জিঙ্ক সালফেট – 10 গ্রাম
  • বোরন – 20 ml
  • Seaweed – 15 ml
  • ১৫ লিটার জলে
ডিসেম্বরে ২ বার (১৫ দিন ব্যবধানে) এই স্প্রে করুন
পর্ব ২: ফুল আসা শুরু

🌿 স্প্রে ২:

  • বোরন – 25 ml
  • ক্যালসিয়াম – 12 ml
  • পটাশ – 10 ml
  • ১৫ লিটার জলে
পর্ব ৩: ছোট ফল ধরা

🌿 স্প্রে ৩ - (১০ দিন পর):

  • ক্যালসিয়াম – 15 ml
  • জিঙ্ক – 7 গ্রাম
  • Seaweed – 20 ml
  • ১৫ লিটার জলে
পর্ব ৪: ফল বড় হওয়া

🌿 স্প্রে ৪ - মাসে ১ বার:

  • পটাশ – 15 ml
  • ম্যাগনেসিয়াম – 10 গ্রাম
  • ১৫ লিটার জলে
⚠️ লিচুর জরুরি টিপস:
  • • অতিরিক্ত ফুলের থোকা তুলে দিন (৩০-৪০% রাখুন)
  • • ডিসেম্বরে জল কম দিন (ঠান্ডা স্ট্রেসের জন্য)
  • • জিঙ্ক স্প্রে বাদ দিলে ফল ছোট থাকবে